ঢাকা খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
রাজনীতি

চারবার গুলিবিদ্ধ, তিনবার কারাবরণ—রাজপথের পরীক্ষায় গড়া বোরহান উদ্দিন ইশরাক কেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায়

নিজস্ব প্রতিনিধি ১৪ সেপ্টেম্বার ২০২৬ ০৭:০৬ পি.এম

বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্বের মূল্যায়ন শুধু পদ-পদবির হিসাব দিয়ে হয় না। একটি রাজনৈতিক প্রজন্মের কঠিন সময়ে কে রাজপথে ছিলেন, কে কর্মীদের সংগঠিত করেছেন, কে হামলা-নির্যাতন ও কারাবরণের মধ্যেও অবস্থান ধরে রেখেছেন এবং কে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও মাঠে সক্রিয় থেকেছেন—সেই ইতিহাসই একজন কর্মীর রাজনৈতিক পরিচয়ের সবচেয়ে বড় দলিল।

বোরহান উদ্দিন ইশরাকের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলাকে দেখলে এমন কয়েকটি অধ্যায় সামনে আসে, যেগুলো আলাদা আলাদা ঘটনা হলেও একসঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরি করে—চারবার গুলিবিদ্ধ হওয়া, তিন দফায় কারাবরণ, একাধিক হামলা ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও রাজপথে সক্রিয় নেতৃত্ব।

এর পাশাপাশি রয়েছে অসচ্ছল শিক্ষার্থী, এতিম ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর নানা মানবিক উদ্যোগ। এই ধারাবাহিক পথচলাই তাঁকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় একজন অভিজ্ঞ ও মাঠপর্যায়ের প্রার্থী হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে।

২০০৯–১০: ঢাকা কলেজ থেকে যে পথচলার শুরু রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২০০৯–১০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা কলেজে পড়াশোনার সময় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন বোরহান উদ্দিন ইশরাক।

শুরু থেকেই তাঁর রাজনীতি ছিল ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক সাংগঠনিক তৎপরতার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচিনির্ভর।

 

সহপাঠী, জুনিয়র ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের নিয়ে তিনি একটি সক্রিয় কর্মীবলয় গড়ে তোলেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিতে নিয়মিতভাবে ৫০–৬০ জনের মতো কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে উপস্থিত থাকতেন তিনি।

সময়ের সঙ্গে সেই পরিসর আরও বিস্তৃত হয়।

ফলে তাঁর রাজনৈতিক পথচলার শুরু থেকেই দুটি বিষয় পাশাপাশি এগিয়েছে—রাজপথে সক্রিয়তা এবং কর্মী সংগঠিত করার সক্ষমতা।

চারবার গুলিবিদ্ধ—চারটি সময়, চারটি রাজনৈতিক পরীক্ষা

ইশরাকের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি তাঁর চারবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিজ্ঞতা।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা তাঁর জীবনবৃত্তান্ত ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

২৯ জুলাই ২০২৩। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচিতে রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন বলে তাঁর দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

২৮ অক্টোবর ২০২৩। বিএনপির একদফা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজপথের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

১৯ জুলাই ২০২৪। জুলাই-আগস্টের বৃহত্তর গণআন্দোলনের উত্তাল সময়ে কাকরাইল এলাকায় সহযোদ্ধাদের সঙ্গে রাজপথে অবস্থানকালে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা তাঁর বক্তব্যে রয়েছে।

চারবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার এই ইতিহাসকে শুধু ব্যক্তিগত আঘাতের পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য পুরোপুরি ধরা পড়ে না।

প্রতিটি ঘটনাই ছিল আন্দোলনের একটি কঠিন সময়। আর প্রতিটি সময়েই তাঁর অবস্থান ছিল রাজপথে।

তিনবার কারাবরণ—প্রায় নয় মাসের বন্দিজীবন

রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি কারাগারের অভিজ্ঞতাও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭ খালেদা জিয়ার আদালতকেন্দ্রিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি।

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তির পর কারাগারের গেট থেকেই নতুন মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

এরপর ২৮ জুন ২০২১, কাকরাইলের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে গ্রেপ্তার হয়ে রমনা থানার মামলায় কারাবরণ করেন তিনি।

তাঁর হিসাব অনুযায়ী, তিন দফা কারাবাস মিলিয়ে প্রায় নয় মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে তাঁকে।

কারাবাসের পাশাপাশি রিমান্ড ও শারীরিক-মানসিক চাপের অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হামলা, নির্যাতন ও মামলার মধ্যেও রাজপথে থাকা

রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে হামলা ও নির্যাতনের মুখোমুখি হওয়ার কথাও ইশরাক জানিয়েছেন। জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা, নয়াপল্টন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলা ও সংঘাতের অভিজ্ঞতা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অংশ।

কিন্তু এসব ঘটনার পরও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেমে যায়নি।

একজন মাঠের কর্মীর রাজনৈতিক সক্ষমতার একটি বড় পরীক্ষা হয় প্রতিকূলতার পর তিনি আবার কত দ্রুত সংগঠনের কাজে ফিরতে পারেন—ইশরাকের রাজনৈতিক পথচলায় সেই ধারাবাহিকতার উদাহরণও পাওয়া যায়।

আন্দোলনের পাশাপাশি সংগঠন—ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের দায়িত্ব রাজপথের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক দায়িত্বও যুক্ত হয়েছে। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রচার সম্পাদক—বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সর্বশেষ তিনি ছিলেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

অবরোধসহ বিভিন্ন আন্দোলনের কর্মসূচিতেও তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকার কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। অর্থাৎ তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় শুধু আন্দোলনের মিছিলে উপস্থিত থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দীর্ঘদিনের ক্যাম্পাসভিত্তিক সাংগঠনিক দায়িত্বও তাঁর অভিজ্ঞতার অংশ।

জুলাই-আগস্ট: বৃহত্তর গণআন্দোলনের রাজপথে জুলাই-আগস্টের আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই আন্দোলনের শুরু থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি সহযোদ্ধা ও জুনিয়র কর্মীদের নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।

তবে এই আন্দোলনকে তিনি শুধু কোনো দল বা ব্যক্তির আন্দোলন হিসেবে দেখেন না। তাঁর বক্তব্যে জুলাইয়ের আন্দোলনকে দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের বৃহত্তর গণআন্দোলন হিসেবে দেখার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের আরেকটি দিক সামনে আনে—দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি বৃহত্তর সামাজিক ও জাতীয় বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও রাজপথে—শিবিরের হামলার প্রতিবাদে

বিএনপি সরকার গঠনের পর ক্যাম্পাসগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রশিবিরের হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করেও ইশরাককে আবার রাজপথে সক্রিয় দেখা যায়।

৮ আগস্ট ২০২৬, সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে তাঁর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে নীলক্ষেত এলাকা প্রদক্ষিণ করে এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘাতের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে ইশরাক ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানান এবং ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য ও জবাবদিহিমূলক ছাত্ররাজনীতির পক্ষে বক্তব্য দেন। এই কর্মসূচির বিশেষ দিক হলো—রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের পরও তাঁর রাজপথের সক্রিয়তা থেমে যায়নি।

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধেও সরব নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অপতৎপরতা ও নৈরাজ্যের অভিযোগের বিরুদ্ধেও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা দেখা গেছে।

২৭ জুন ২০২৬, আওয়ামী লীগের ‘ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। নীলক্ষেত থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এলিফ্যান্ট রোডে গিয়ে শেষ হয়।

সেই কর্মসূচিতে ইশরাক বক্তব্য দেন এবং আওয়ামী লীগের কোনো অপতৎপরতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে ছাত্রদল রাজপথে তা মোকাবিলা করবে বলে মন্তব্য করেন। সংবাদ প্রতিবেদনে কর্মসূচিতে প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও তাঁর কর্মকাণ্ডের একটি ধারাবাহিকতা স্পষ্ট—যে ইস্যুকে তিনি সংগঠন ও রাজপথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন, সেখানে কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া।

১৭ বছরের পথচলায় রাজপথই ছিল প্রধান পরিচয় ইশরাক তাঁর রাজনৈতিক পথচলার সময়কালকে প্রায় ১৭ বছরের সক্রিয় রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন। এই সময়ের মধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে কর্মসূচি, তারেক রহমানের দেশে ফেরার দাবিকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি, হরতাল-অবরোধ, সমাবেশ, মিছিল এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে মাঠে থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

এই দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতাই তাঁর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের আলোচনার অন্যতম ভিত্তি। রাজনীতির বাইরে মানুষের পাশে একজন রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয় শুধু মিছিল, স্লোগান কিংবা সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না।

ইশরাকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগও রয়েছে। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা, এতিম শিক্ষার্থীদের খাবার বিতরণ এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ শিক্ষার্থীদের পোশাক ও খাবারের ব্যবস্থা—এসব কর্মকাণ্ড তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মানবিক দিকটি সামনে আনে।

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে এতিম হাফেজদের সঙ্গে ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দারুন নাজাত আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণ এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন ইশরাক।

রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানোর এই উদ্যোগ তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজদের পাশে

২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মোহাম্মদপুরের আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মাদ্রাসায় হাফেজ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে পোশাক বিতরণ এবং মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন তিনি।

“মানবতার সেবায় সহমর্মিতার বন্ধনে”—এই ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের খোঁজ নেওয়ার কথাও প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসেছে।

রাজনীতির মাঠে কঠিন অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতাও একজন রাজনৈতিক কর্মীর নেতৃত্বের পরিধিকে বিস্তৃত করে।

কেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় বোরহান উদ্দিন ইশরাক? একজন কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতার মূল্যায়নে শুধু একটি বিষয় যথেষ্ট নয়।

 

প্রয়োজন হয় দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, রাজপথের পরীক্ষিত ভূমিকা, সাংগঠনিক সক্ষমতা, কর্মী সংগঠিত করার দক্ষতা, সংকটকালীন নেতৃত্ব, রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ।

ইশরাকের ক্ষেত্রে এসব উপাদান তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার বিভিন্ন পর্যায়ে দেখা যায়। চারবার গুলিবিদ্ধ হওয়া তাঁর ত্যাগের একটি দিক। তিন দফা কারাবরণ তাঁর রাজনৈতিক প্রতিকূলতার আরেকটি দলিল।

হামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচিতে থাকা তাঁর রাজনৈতিক দৃঢ়তার দিকটি তুলে ধরে। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব তাঁর সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতার প্রমাণ দেয়।

আর ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো দেখায়—রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের পরও তিনি মাঠের রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি; শিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদ এবং ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন ইস্যুতেও তিনি প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন।

এই সমগ্র পথচলা বিবেচনায় তাঁর মতো দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের একজন কর্মীর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতৃত্বে মূল্যায়নের প্রশ্নটি তাই স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে।

গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্বের প্রশ্ন—শেষ কথা বলবে মূল্যায়ন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কেবল একটি সাংগঠনিক পদ নয়; এটি একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব।

সেই জায়গায় কারও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক অতীত, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, প্রতিকূল সময়ে অবস্থান এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সক্রিয়তার বিষয়গুলো বিবেচনায় আসাই স্বাভাবিক।

বোরহান উদ্দিন ইশরাকের দীর্ঘ পথচলায় রয়েছে রাজপথের গুলির ক্ষত, কারাগারের দিন, হামলা-নির্যাতনের অভিজ্ঞতা, সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা, আন্দোলনে নেতৃত্ব, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইস্যুতে মাঠে সক্রিয়তা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ধারাবাহিকতা।

সুতরাং তাঁর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের আকাঙ্ক্ষা কেবল একটি পদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা হিসেবে নয়—দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিজেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল্যায়নের সামনে তুলে ধরার একটি রাজনৈতিক দাবি হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত পদ একটি পরিচয় দিতে পারে। কিন্তু রাজপথের ইতিহাসই একজন কর্মীর রাজনৈতিক পরিচয়ের সবচেয়ে বড় দলিল।

আর সেই ইতিহাসের পাতায়—গুলিবিদ্ধ হওয়ার চারটি অধ্যায়, কারাগারের তিনটি অধ্যায়, হামলা-নির্যাতনের অসংখ্য স্মৃতি, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক দায়িত্ব, সাম্প্রতিক রাজপথের নেতৃত্ব এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ—সব মিলিয়ে বোরহান উদ্দিন ইশরাকের রাজনৈতিক পথচলা আজ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল্যায়নের একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় হয়ে উঠেছে।

আরও খবর

news image

চারবার গুলিবিদ্ধ, তিনবার কারাবরণ—রাজপথের পরীক্ষায় গড়া বোরহান উদ্দিন ইশরাক কেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায়

news image

স্পেনের বার্সেলোনায় বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অনাড়ম্বর আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

news image

তফসিলের আগেই কেন্দুয়ার ১৮৫ পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

news image

জয়পুরহাট জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

news image

কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খালেদ মাহমুদ অন্তরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার

news image

জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

news image

রাজাপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

news image

নানা আয়োজনে ঝালকাঠিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

news image

নিষিদ্ধের দাবির বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের প্রতিবাদ, নাগরিক অধিকার রক্ষার আহ্বান

news image

গণভোটকে অবৈধ ঘোষণা করা হলে সরকারের নিজস্ব বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে - মামুনুল হক

news image

জিয়া ও খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

news image

মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

news image

আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রুখতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার অ্যাক্টের আওতায় ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

news image

বোচাগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফসার আলী আটক

news image

বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে ময়মনসিংহে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

news image

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মুমিনুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

news image

সম্প্রতি দুই এমপির আচরণ অগণতান্ত্রিক নিন্দনীয়

news image

মমেক ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্তির ব্যখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন

news image

আমরা দলগতভাবে নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি - গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

news image

গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হলেন বাবুল

news image

জামায়াত-জোটের ১২ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, একজনের স্থগিত

news image

আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

news image

বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনীত ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে

news image

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ডা. সানসিলা প্রিয়াঙ্কা

news image

নোয়াখালী থেকে কাউকে মন্ত্রী না করায় জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা

news image

দুলু মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ায় নাটোরে হতাশা, ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া

news image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত নারী এমপি রুমিন ফারহানা

news image

জামায়াত-এনসিপিচক্র দেশে আরেকটা ৫ আগস্ট চায় : নতুনধারা

news image

ভাঙাচোরা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দুপুরে নেতা-কর্মীদের স্লোগান, বিকেলে অগ্নিসংযোগ

news image

লালমনিরহাট-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা