মো: খায়রুল ইসলাম : ০৩ নভেম্বার ২০২৬ ০৫:০৯ পি.এম
বাংলার প্রকৃতিতে এখন হেমন্তের হাতছানি। এই সময়ে ভোরের ঘাসে শিশিরবিন্দু মুক্তোর মতো ঝলমল করার কথা। কুয়াশার পাতলা চাদরে ঢেকে যাওয়ার কথা দূরের মাঠ-ঘাট। আর বাতাসে ভেসে আসার কথা শীতের মৃদু পরশ। কাশফুলের শুভ্রতা, নবান্নের আনন্দ, আর ধীরে ধীরে নামতে থাকা শীত- সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন নীরবে জানিয়ে দিত- ঋতুর দরজায় কড়া নাড়ছে নতুন অতিথি।
কিন্তু সেই চিরচেনা প্রকৃতির সঙ্গে আজকের বাংলাদেশের আবহাওয়ার যেন কোথায় এক অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় ঋতু বদলায় অথচ প্রকৃতির আচরণে তার প্রতিফলন অনেক সময় স্পষ্ট হয়ে উঠে না। কখনো গরমের দাপট, কখনো হঠাৎ হালকা বৃষ্টি, আবার কখনো মেঘলা আকাশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অস্বস্তিকর ভ্যাপসা আবহাওয়া। সব মিলিয়ে ঋতু পরিবর্তনের চিরায়ত ছন্দ যেন বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশে অক্টোবর মানেই বর্ষার বিদায়, হেমন্তের আগম এবং শীতের প্রস্তুতির সময়। এক সময় এ সময়টাতেই ভোরের বাতাসে শীতের হালকা কাঁপুনি অনুভূত হতো। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতো তাপমাত্রা। ভোরে জানালার পাশে দাঁড়ালে গায়ে লাগত স্নিগ্ধ ঠান্ডা হাওয়া। গ্রামের পথে পথে ধানের গন্ধ। মাঠে ফসলের ব্যস্ততা আর মানুষের পোশাকে হালকা শীতের প্রস্তুতি- সব কিছুতেই থাকতো ঋতু পরিবর্তনের স্বাভাবিক ইঙ্গিত।
কিন্তু এবারও অক্টোবরের শেষভাগে এসে অনেকের মনে সেই পুরনো প্রশ্ন- শীত কি তবে দেরি করছে? দিনের তাপমাত্রা আর রাতের আবহাওয়ার মধ্যে প্রত্যাশিত পার্থক্য না থাকায় মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে বিস্ময়। কোথাও বৃষ্টির পর সাময়িক স্বস্তি, আবার কোথাও গরশের অস্বস্তি। শীতের আগমনী সুর শোনা গেলেও তার স্থায়ী উপস্থিতি যেন এখনো অনিশ্চিত।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল- বৃষ্টির কারণে দেশের কিছু এলাকায় সাময়িক শীতলতা অনুভূত হলেও প্রকৃত শীতের অনুভূতি আসতে আরও সময় লাগতে পারে। ঢাকায় শীতের স্পষ্ট অনুভূতি পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলেও আবহাওয়াবিদদের বক্তব্য উঠে এসেছে।
ঋতুর এই আচরণকে কেবল আবহাওয়াগত পরিবর্তন মনে করলে হবে না। বৈশ্বিক উষ্নতা, বায়ুমন্ডলের পরির্বতন, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা উঠানামা এবং জলবায়ুগত প্রক্রিয়া আঞ্চলিক আবহাওয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
প্রকৃতির এই অস্থিরতা শুধু ঋতুর সৌন্দর্যকে প্রভাবিত করছে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি। তাপমাত্রার পরিবর্তন কৃষকের ফসল উৎপাদনের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। শীতকালীন সবজি চাষ, বীজ বপন ও সেচ ব্যবস্থাপনায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।
অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে কংক্রিটের ভবন, যানবাহনের ধোঁয়া, সবুজের সংকট এবং তাপ রিফলেকশন নগরজীবনে তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে। ফলে গ্রাম ও শহরের একই ঋতুর অভিজ্ঞতা এক রকম হয় না। ঢাকা শহরের শীত আর উত্তাঞ্চলের কোনো জেলার শীতের অনুভূতির মধ্যে পার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক।
বাংলার ঋতু কেবল আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়; এটি মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্ষা মানেই বৃষ্টির সুর, শরৎ মানেই শুভ্র কাশফুল, হেমন্ত মানেই পাকা ধানের গন্ধ, আর শীত মানেই কুয়াশা, খেজুরের রস ও পুলিপিঠার উৎসব। এই ঋতু চক্রের মধ্যেই গড়ে উঠেছে বাঙালির জীবনবোধ।
কিন্তু প্রকৃতির আচরণে সেই পরিচিত চিরচেনা অভিজ্ঞতাও বদলে যাচ্ছে। যে ভোরে শিশিরের স্পর্শে ঘাস ভিজে থাকার কথা, অথচ সেই ভোরে গরমের অস্বস্তি। যে সময়ে শীতের কাগড় বের করার কথা, সে সময়ে ঘাম মুছতে ব্যষÍ মানুষ। ঋতুর নাম ঠিক থাকলেও তার অনুভূতি যেন ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে।
প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এখনই সময় :
ঋতুর এই পরিবর্তিত আচরণ আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে- নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, জলাভূমি ভরাট, অপরিকল্পিত নগরাযণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ, জলাভূমি সংরক্ষণ, দুষণ নিন্ত্রণ, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য।
প্রকৃতি কখনো উচ্চকন্ঠে প্রতিবাদ করে না। তার ভাষা নীরব। কখনো অস্বাভাবিক গরমে, কখনো অসময়ের বৃষ্টিতে, কখনো দীর্ঘ প্রতীক্ষার শীতে। সেই নীরব ভাষা বুঝতে পারাই হলো পরিবেশ প্রেমিক।
হয়তো শীত আসবে, কুয়াশায় ঢেকে যাবে কোনো এক ভোরের পথ, শিশিরে ভিজবে ঘাষ, উঠোনে বসবে পিঠা তৈরীর আয়েজন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়- সেই শীত কি ফিরিয়ে দিতে পারবে আমাদের শৈশবের চেনা অনুভূতি, নাকি ঋতুর পরিচিত রূপ, যা ধীরে ধীরে হয়ে উঠবে স্মৃতির অংশ। প্রকৃতির এই নীরব পরিবর্তন কেবল আমাদের জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর এক ঐতিহাসিক দিন
শীতের আগমনী বার্তা প্রকৃতির আচরণে বদলে যাচ্ছে চেনা ঋতুচক্র
বেতনহীন মফস্বল সাংবাদিকতা: দেশসেবার আড়ালে কঠিন বাস্তবতা
কেন্দুয়া পৌরসভার ২৮ বছরের নেতৃত্বের ইতিহাসে প্রশাসকের অধীনে শুরু হয়ে ফের প্রশাসকের হাতে
কেন্দুয়া উপজেলার ১৩ ইউপির দুই দশকের নির্বাচনী হালচাল
কেন্দুয়ার সদরঘেঁষা কান্দিউড়া ইউপির ৫০ বছরের নেতৃত্বের পালাবদল; সামনে প্রতীকবিহীন নির্বাচন
কেন্দুয়ার রোয়াইলবাড়ির পাঁচ দশকের নির্বাচনী ইতিহাস; নেতৃত্বের সমীকরণের নেপথ্যের কাহিনী!
“আট মাস ধরে বাস বন্ধ, জয়পুরহাট–আক্কেলপুর যাতায়াতে ট্রেন-ইজিবাইকই ভরসা”
মানবতার অপর নাম জীবন চৌধুরী
৮০০ টাকা পূঁজি থেকে দুই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার কেন্দুয়ার কামালের জীবন কথা
লাল সবুজের জন্ম : একটি পতাকার আত্মকথা
পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় আমাদের দায়িত্ব
তামাক চাষে তিন ফসলী কৃষি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মালিকানার সংকট।
সিন্ধু জলচুক্তি: শান্তির দলিল নাকি একতরফা ছাড়ের ইতিহাস?
তরুণদের টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে
অনাবৃষ্টি প্রখর তাপে মুগডাল চাষিরা বিপাকে কাঙ্ক্ষিত ফলন থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা
ঈদ: ফিরে আসার অনন্ত গল্প-কৃষিবিদ মোঃ আতিকুর রহমান
ভাষা আন্দোলন ও সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের প্রয়োজনীয়তা
সাতক্ষীরায় লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়াতে আগাম বোরো চাষ করছে কৃষক
যাদের স্বামী পাশে থেকেও নেই তাদের করনীয়
মাঘের শীতেই মুকুলে ভরেছে দিনাজপুরের আমগাছ
বিলুপ্তির পথে দিনাজপুরের শীতল মাটির ঘর
বাংলাদেশের আকাশছোঁয়া জলবায়ু ঋণ: সহনশীলতা ঝুঁকিতে, দারিদ্র্য বাড়ছে
সর্বজনীন ফর্মূলায় না আসলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বাংলাদেশ
দূষিত পরিবেশে বিপন্ন দেশ রক্ষার এখনই সময়
আম ব্যবসায় সাফল্য: বড় উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন সোহাগের
তামাকমুক্ত দেশ গড়তে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন
সৌখিন কৃষি ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানবিক সেবা কাজে কুসুমপুর গ্রামবাসীর ভালোবাসায় শিক্ত ভেষজ বিজ্ঞানী বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ টিপু সুলতান পিএইচডি
প্রযুক্তিগত সুফল কৃষিতে জাগরণ সৃষ্টি করেছে